বিদ্যুৎ বিল কমানোর উপায় | Electricity bill 2022

বিদুৎ সাশ্র‍য়ের প্রথম ধাপ হলো সচেতন হওয়া। মনে রাখতে হবে বিল নিজে দিল বিদ্যুৎ পুরো দেশের সম্পদ। প্রত্যেক মাসে হাতে salary পাওয়ার আগেই, বিদ্যুৎ বিল বিদ্যুৎ বিল আসার চিন্তা আমাদের মাথায় চলে আসে।



তবে সে তো আসবেই,,,,,,,
কেননা বর্তমানে আমাদের ঘরে কেবল  fan বা light ছাড়াও অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের আধুনিক "Electronic Equipment" গুলোর ব্যবহার করা হয়। গরমের শীতল থাকতে রাতদিন ফ্যান চালাচ্ছি। একটু সামর্থ্যবান হলে কিনে আনে এসি । আর বাতি, ফ্রিজ,  কম্পিউটার, ওয়াশিং মেশিন, ওভেন, ব্লেন্ডার, আয়রন মেশিনে ইত্যাদি তো আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় বস্তু। আর এই  সব গুলো চালাতে দরকার পড়ে বিদ্যুতের। এই আধুনিক উপকরণগুলো অধিক বেশি বৈদ্যুতিক ইউনিট ব্যবহার করে থাকে।


তাই আজ এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আমি আপনাদের বিদ্যুৎ বিল কমানোর উপায় দা বিদ্যুৎ বিল বেশি আসলে কি কি বিষয়ের প্রতি সতর্ক থাকতে হবে বিষয়ে বলব।

বৈদ্যুতিক বিল কমানোর উপায় গুলো কি কি??? 

মনে রাখবেন, বিদ্যুৎ বিল বেশি আসার মূল কারণ হলো অধিক বেশি পরিমাণে Electric  উপকরনের অধিক ব্যবহার। উপকরণের অধিক ও অনুপযুক্ত ব্যবহারের ফলেই অধিক ইউনিট (Unit ) বাড়তে থাকে।


তাই নিচে কিছু টিপস দেওয়া হলো তা পরে অবশ্যই বুঝতে পারবেন কিভাবে বিদ্যুৎ বিল কমানো যেতে পারে।


টিপসসমূহ 

১। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতির ব্যবহার।
২। Fan, Light এর সঠিক ব্যবহার।
৩। AC ব্যবহারে সর্তকতা।
৪। সোলার প্যানেল এর ব্যবহার।
৫।অব্যবহৃত যন্ত্রপাতির সুইচ বন্ধ রাখা।
৬। আধুনিক মডেলের যন্ত্রপাতি ব্যবহার।
৭।পুরাতন সরঞ্জাম ব্যবহার পরিত্যাগ।
৮। ফ্রিজ (fridge) এর ব্যবহার।
৯।প্রাকৃতিক শক্তির ব্যবহার
১০। বিদ্যুতের সীমিত ধাপের মধ্যে থাকা।
১১। বিকল্প যন্ত্রপাতি ব্যবহার। 

বিদ্যুৎ সাশ্রয় যন্ত্রপাতি ব্যবহার

প্রচলিত বাতিল তুলনায় এনার্জি বাল্ব বা এলইডি বাতির ব্যবহার করা হলে বিদ্যুতের ব্যবহার অনেক কমে আসে।  যেখানে প্রচলিত একটি বাড়তি 100 ওয়ার্ড ব্যবহার করে সেখানে একটি এনার্জি বাতি ব্যবহার করে মাত্র 25 ওয়ার্ড। প্রথমদিকে বাতির ক্রয় মূল্য বেশি হলেও  এগুলো দীর্ঘদিন সেবা দেয়। এবং বিলের হিসেবে অনেক বেশি সাশ্রয়ী হয়। এছাড়া এখন  ইনভার্টার যুক্ত  Fridge, AC, Washing Machine পাওয়া যায়। এই সব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ বিল অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব। 


Fan, Light এর সঠিক ব্যবহার 

Electricity  bill এর ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে হলে অবশ্যই আপনার এই বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে।
খালি ঘর থেকে বাইরে যাওয়ার সময় ফ্যান বা লাইট বন্ধ না করার আমাদের একটা অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে। তাই রুম থেকে বের হওয়ার আগে অবশ্যই ঘরের সকল ইলেকট্রিসিটির switch off করতে হবে। এবং খেয়াল রাখতে হবে বিনা কারনে কোন ঘরে Fan বা Light ছাড়া না থাকে। এতে কিছুটা হলেও বিদ্যুৎ বিল কমানো সম্ভব হতে পারে।

AC ব্যবহারে সর্তকতা

বাসাবাড়িতে এসির ব্যবহার এখন নিয়মিত ঘটনা। তাই নিয়মিত সঠিকভাবে এস সি ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ বিল কিছুটা কমিয়ে আনা যায়।  এসির তাপমাত্রা সবসময় 25 ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখতে হবে। নির্দিষ্ট মাত্রায় রুম ঠান্ডা হয়ে যাবার পর এসি বন্ধ করে ফ্যান চালানো যেতে পারে।


সোলার প্যানেল এর ব্যবহার

সোলার প্যানেল ব্যবহারের দ্বারা অনেক বেশি পরিমাণে বিদ্যুৎ বিল কমানো সম্ভব। তাই একটু টাকা খরচ করে সোলার প্যানেল কিনে নিতে হবে।

সূর্যের কিরণ এর শক্তি থেকে বিদ্যুৎ এর উৎপাদন হয় সেই বিদ্যুৎ সোলার প্যানেল এর সাথে সংযুক্ত ব্যাটারীতে চলে আসে। তারপর ব্যাটারি থেকে inventer এবং inventer থেকে আপনার ঘরের electrical appliances গুলোতে বিদ্যুৎ ছড়িয়ে দেয়া হবে।  সোলার প্যানেল ব্যবহারের কারণে মাসে প্রায় ৭০% বিদ্যুৎ বিল কম আসার সুযোগ রয়েছে।

অব্যবহৃত যন্ত্রপাতির সুইচ বন্ধ রাখা

ফ্যান বাতি কম্পিউটার ব্যবহার না করলে সব সময় এগুলো সুইচ বন্ধ করে রাখা। অনেক সময় বাথরুম বা বারান্দার লাইট জ্বলে থাকে সেগুলো যেন বিনা কারণে জ্বলে না থাকে এই বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে। আয়রন ব্যবহার করার পরে প্লাগ খুলে রাখা।  টিভি বা কম্পিউটার ব্যবহার না করলে স্লিপিং মুড বা মেইন সুইচ বন্ধ করে রাখা।


আধুনিক মডেলের যন্ত্রপাতির ব্যবহার

আগের কার সময়ে বেশিরভাগ electronics গুলোকে   energy efficiency উপর লক্ষ রাখতে হতো না। তাই আগেরকার পুরাতন মডেলের সরঞ্জাম গুলো আমাদের সুবিধা তো দিয়েই থাকে তবে তার বিপরীতে আমাদের অধিক বিদ্যুৎ বিল প্রদান করতে হয়।

তাই আধুনিক মডেলের Smart Tv, AC, Fridge,  Inventer ব্যবহার করলে আগের মডেলের তুলনায় অধিক কম বিল উঠার সম্ভবনা থাকে।

পুরারন সরঞ্জাম ব্যবহার পরিত্যাগ

বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম যত পুরাতন হতে থাকে তার কর্মদক্ষতা ততো কমতে থাকে।  তাই এইগুলোর নিয়মত সার্ভিসিং  করাতে হয়। তবে বেশি পুরাতন যন্ত্রপাতি সার্ভিসিং করালে ও লাভ হয় না। তাই সম্ভব হলে পুরাতন যন্ত্রপাতি বাদ দিয়ে নতুন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা উচিত৷ নতুন যন্ত্রপাতি ব্যবহারে তুলনামূলক কম বিদ্যুৎ খরচ হয়।


ফ্রিজ (Fridge) এর সঠিক ব্যবহার

ফ্রিজ এর Cooling ক্ষমতা medium এ সেট করে রাখুন। এতে আস্তে আস্তে ফ্রিজ ঠান্ডা হতে থাকবে এবং  সাথে সাথে বিদ্যুৎ এর কম ব্যবহার হবে৷ একবারে গরম খাবার ফ্রিজে রাখবেন না। গরম খাবার আগে ঠান্ডা করুন তারপর ফ্রিজে রাখুন।


এবং বার বার ফ্রিজ খোল থেকে বিরত থাকুন। কারন যত বেশি ফ্রিজ খুলবেন বাইরের গরম হাওয়া ফ্রিজে ঢুকবে এবং ফ্রিজের ঠান্ডা গ্যাস বাইরে বের হয়ে যাবে। এতে করে ফ্রিজ পুনরায় ঠান্ডা হতে অনেক সময় লেগে যাবে। এবং বিদ্যুৎ এর ব্যবহার বেশি হবে।

প্রাকৃতিক শক্তির ব্যবহার

এখন বহুতল ভবনে সৌরবিদ্যুত ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে বিদ্যুৎ বিতরনকারী সংস্থাগুলো। যেখানে বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়েছে বা বার বার লোডশেডিং হয় তারাও সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারেন। পাশাপাশি দিনের বেলায় ঘরের বাতি না জ্বালিয়ে বাইরের সুর্যের আলোয় প্রবনতা তৈরি করা ভালো।


বিদ্যুতের সীমিত ধাপের মধ্যে থাকা

বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমানকে কয়েকটি ধাপে বিভক্ত করা হয়েছে। সে অনুযায়ী প্রতি ইউনিটের মূল্য একেক রকম। যেমন ডিপিডিসি অনুসারে বাসাবাড়িতে সচরাচর ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক লাইনের ক্ষেত্রে (২৩০/৪০০) ভোল্ট। কারো যদি বিদ্যুতের ব্যবহার ৭৫ ইউনিটের মধ্যে সীমিত থাকে। তাহলে বিল আসবে প্রতি ইউনিটে ৪.১৯ টাকা। কিন্ত (৭৬-২০০) ইউনিট পর্যন্ত বিল আসলে ৫.৭২ টাকা করে।



বিকল্প যন্ত্রপাতির ব্যবহার

বাসায় রান্না করা খাবার গরম করার জন্য মাইক্রোওভেন ব্যবহার না করে তা চুলার আগুনে গরম করতে পারেন। স্লো কুকার বা স্টোস্টার ব্যবহার করা যায়। মাইক্রোওভেনে ডিপ ফরেস্টে না রেখে পানিতে রেখে খাবারের বরফ ছাড়িয়ে নেয়া যেতে পারে। ওয়াশিং মেশিনে গরম পানির ব্যবহার না করলে বিদ্যুৎ বিল কম আসবে।


অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ অপচয় রোধ করা
আমরা কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করে বিদ্যুৎ অপচয় বা বিদ্যুৎ বিল কমাতে পারি। যেমন

– অযথা টিভি, ফ্যান, কম্পিউটার ছেড়ে রাখা বা বাতি জ্বালিয়ে রাখা যাবে না। যেমনঃ রান্নাঘর বা বাথরুমে  আলো থাকা সত্বেও বাতি জ্বালানোর মত বাজে অভ্যাস  পরিত্যাগ করা।

– বাচ্চারা অনেক সময় সুইচ অন-অফ করার খেলায় মেতে ওঠে।  ওদেরকে বুঝিয়ে শুনিয়ে এই রকম কাজ করা থেকে বিরত রাখতে হবে। এতে করে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি অযথা বিদ্যুৎ খরচ হবে না।

– ভোরে ঘুম থেকে ওঠা ও রাতে দ্রুত ঘুমানোর অভ্যাস করা। এতে দিনের আলোর ব্যবহার বাড়বে এবং বিদ্যুতের ব্যবহার কমবে। 

– কাপড় শুকানোর জন্য বৈদ্যুতিক পাখা চালানো যাবে না। এটাও এক প্রকার বিদ্যুৎ অপচয়। 

– রান্নাঘরের এডজাস্ট ফ্যান সবসময় না চালিয়ে শুধু রান্নার সময় ব্যবহার করার অভ্যাস করতে হবে। 


শেষকথা

বিদ্যুৎ আমাদের দেশের একটি  অন্যতম সম্পদ। তাই বিনা কারনে বিদ্যুৎ অপচয় থেকে আমাদের সর্তক থাকতে হবে। এতে করে বিদ্যুৎ অপচয় এর পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিল অনেকাংশে কমানো সম্ভব। আমি আশা রাখছি আমার এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে আপনারা বুঝতে পেরেছেন কিভাবে বিদ্যুৎ বিল কমানোর ক্ষেত্রে আমাদের করনীয় কি। আমার আর্টিকেলটি আপনাদের কাছে কেমন লেগেছে তা কমেন্ট এর মাধ্যমে অবশ্যই জানাবেন। 

Please Select Embedded Mode For Blogger Comments

Previous Post Next Post